এক গভীর চাঁদনী রাতে পাশের গ্রামের বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরছিল নাদিম। বাড়ি ফিরতে একটা ছোট বিল পাড়ি দিতে হয় তাকে। বিলের মাঝখানে এসে দেখতে পায় কিছু দূরে একটি কলাগাছের ঝাড়ে সাদা কাপড় পরে এক নারী বারবার আঁচল নাড়ছে। প্রথমে নাদিম ভয় পেলেও পরে সাহস করে কাছে গিয়ে দেখল একটি শুকনো কলাপাতা চাঁদের আলোয় সাদা দেখাচ্ছে আর বাতাসে তার নড়াচড়া দেখে নারীর আঁচল নাড়ানো মনে হচ্ছে, আঁচল রহস্য উদ্ঘাটন হওয়ায় নাদিম একাই কতক্ষণ হেসে নিল।
উদ্দীপকের নাদিম ও 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের মানসিকতার পার্থক্য কুসংস্কারে বিশ্বাস করে ভূতে ভয় পাওয়ার দিক থেকে।
প্রকৃত সত্য বা ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনের জন্য চেষ্টা না করে যারা অযৌক্তিকভাবে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করে তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকেরা ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে এবং তাদের অলৌকিক ক্ষমতা আছে বলে ধারণা করে। সচেতন মানুষ তা করে না।
উদ্দীপকে নাদিমের সচেতনতা, সাহস ও বাস্তব জ্ঞানের পরিচয় প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে চাঁদনি রাতে বিলের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার পথে নাদিম কলাপাতাকে সাদা কাপড় পরা নারী মনে করে প্রথমে ভয় পায়। পরে কাছে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে ভয় ভুলে হেসে উঠেছে। উদ্দীপকের নাদিমের বাস্তববুদ্ধি ও সাহসের এই বিষয়টি 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের মানসিকতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ নগেন তার মামাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তার ছবিতে হাত দিলে ইলেকট্রিক শক লাগে এবং এ বিষয়টিকে ভূতের কাজ বলে সে মনে করে। কিন্তু উদ্দীপকের নাদিম তা করে না। সে সাহস করে কাছে গিয়ে আবিষ্কার করে যে দূর থেকে যা দেখেছে তা সাদা কাপড় পরা কোনো নারী নয়, শুকনো কলাপাতা মাত্র, যা চাঁদের আলোয় সাদা কাপড় মনে হয়েছে। এখানেই উদ্দীপকের নাদিম ও 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের মানসিকতার পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?