Academy

এক গভীর চাঁদনী রাতে পাশের গ্রামের বন্ধুর বাড়ি থেকে ফিরছিল নাদিম। বাড়ি ফিরতে একটা ছোট বিল পাড়ি দিতে হয় তাকে। বিলের মাঝখানে এসে দেখতে পায় কিছু দূরে একটি কলাগাছের ঝাড়ে সাদা কাপড় পরে এক নারী বারবার আঁচল নাড়ছে। প্রথমে নাদিম ভয় পেলেও পরে সাহস করে কাছে গিয়ে দেখল একটি শুকনো কলাপাতা চাঁদের আলোয় সাদা দেখাচ্ছে আর বাতাসে তার নড়াচড়া দেখে নারীর আঁচল নাড়ানো মনে হচ্ছে, আঁচল রহস্য উদ্‌ঘাটন হওয়ায় নাদিম একাই কতক্ষণ হেসে নিল।

উদ্দীপকের নাদিম ও 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের মানসিকতার পার্থক্য কোথায়? বর্ণনা দাও। (প্রয়োগ)

Created: 3 months ago | Updated: 3 months ago
Updated: 3 months ago
Ans :

উদ্দীপকের নাদিম ও 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের মানসিকতার পার্থক্য কুসংস্কারে বিশ্বাস করে ভূতে ভয় পাওয়ার দিক থেকে।

প্রকৃত সত্য বা ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য চেষ্টা না করে যারা অযৌক্তিকভাবে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করে তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন। কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকেরা ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে এবং তাদের অলৌকিক ক্ষমতা আছে বলে ধারণা করে। সচেতন মানুষ তা করে না।

উদ্দীপকে নাদিমের সচেতনতা, সাহস ও বাস্তব জ্ঞানের পরিচয় প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে চাঁদনি রাতে বিলের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার পথে নাদিম কলাপাতাকে সাদা কাপড় পরা নারী মনে করে প্রথমে ভয় পায়। পরে কাছে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করে ভয় ভুলে হেসে উঠেছে। উদ্দীপকের নাদিমের বাস্তববুদ্ধি ও সাহসের এই বিষয়টি 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের মানসিকতার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ নগেন তার মামাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তার ছবিতে হাত দিলে ইলেকট্রিক শক লাগে এবং এ বিষয়টিকে ভূতের কাজ বলে সে মনে করে। কিন্তু উদ্দীপকের নাদিম তা করে না। সে সাহস করে কাছে গিয়ে আবিষ্কার করে যে দূর থেকে যা দেখেছে তা সাদা কাপড় পরা কোনো নারী নয়, শুকনো কলাপাতা মাত্র, যা চাঁদের আলোয় সাদা কাপড় মনে হয়েছে। এখানেই উদ্দীপকের নাদিম ও 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেনের মানসিকতার পার্থক্য লক্ষ করা যায়।

3 months ago

সাহিত্য কনিকা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

অশরীরী শক্তির প্রতি অন্ধবিশ্বাসের কারণে পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন।

'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেন ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে। মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে পরিণত হয় এরকম বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত আছে বলেই নগেন বৈদ্যুতিক শককে ভূতের কাজ বলে বিশ্বাস করেছে। পরাশর ডাক্তার নগেনের কাছে ঘটনাটি শুনে বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিতর্কের আশ্রয়ে সমাধানের জন্য ভাবতে থাকলেন। শেষে দেখলেন যে, তৈলচিত্রটি রুপার ফ্রেমে আটকানো এবং তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে এরূপ ঘটেছে। বিষয়টি তিনি নগেনকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। নগেন বুঝতে পারল এবং তার ভূতে বিশ্বাস থাকল না। নগেরে এ ধরনের বিশ্বাস ও বোকামির জন্য তাকে পরাশর ডাক্তার ভর্ৎসনা করলেন।

উদ্দীপকের সাহানা এবং 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেন উভয়ের মধ্যে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।

মানুষ শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে বিজ্ঞানসম্মত বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারে না। তারা বংশপরম্পরায় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে সহজে গ্রহণ করে থাকে।

'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের নগেন মামার তৈলচিত্রকে ভূত বলে ভেবেছে। পরে তার ভুল ভেঙেছে। সেটি যে বিদ্যুতের শক তাসে বুঝেছে পরাশর ডাক্তারের কথায়। অন্যদিকে উদ্দীপকে সাহানা মাঠে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে এবং মামার কথামতো বিশ্বাস করে সে আলো হচ্ছে ভূতের আলো। উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের বিশেষ মিলটি হলো সাহানা ও নগেন উভয়েরই ভূতে বিশ্বাস রয়েছে। ভূতের কথা মনে করে তারা উভয়েই আঁতকে উঠেছে। তারা কেউই বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা করেনি।

হ্যাঁ, রফিক সাহেব আর 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়।

অনেক আগে মানুষ অজ্ঞতার অন্ধকারে বসবাস করত! অনেক কিছুকেই না বুঝে ভূত বলে মনে করত। ভূতে বিশ্বাস এখন আর মানুষের নেই। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অবদান সবচেয়ে বেশি।

উদ্দীপকে রফিক সাহেব তার ভাগনি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। সেখানে সাহানা রাতের বেলা খোলা মাঠে হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে। বিষয়টি নতুন বলে সাহানা ভয় পেয়ে যায়। মামা বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করে বুঝিয়েছেন যে, সেটি ভূতের কাজ নয়। মাটির একপ্রকার গ্যাস যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। 'তৈলচিত্রের ভূত' গল্পে নগেন তার মামার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তৈলচিত্রের ওপর হাত রাখতে গিয়ে বিদ্যুতের শককে ভূত ভেবে ভয় পায়। পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিতর্কের মানুষ বলে শেষে বুঝতে পারলেন যে, তৈলচিত্রটি রূপার ফ্রেমে আটকানো এবং তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে এরূপ ঘটেছে। বিষয়টি তিনি নগেনকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। নগেন বুঝতে পারল এবং তার ভূতে বিশ্বাস দূর হলো।

রফিক সাহেব ও পরাশর ডাক্তার ব্যাখ্যা দিয়ে সাহানা ও নগেনকে বোঝাতে সক্ষম হন যে ভূত বলে কিছুই নেই। তাদের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় উভয়েই আধুনিক মানসিকতার অধিকারী।

পরাশর 'ডাক্তার নগেনকে আগে থেকে চিনতেন বলেই তিনি বিশ্বাস করলেন যে, নগেন মিথ্যে বানোয়াট গল্প শোনানোর ছেলে নয়।

পরাশর ডাক্তার দুই মাস আগে নগেনের মামার শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ রাখতে গিয়ে নগেনকে দেখেন। তখন নগেন হাসিখুশি মোটাসোটা তেল চকচকে ছিল। কিন্তু বর্তমানে তার অবস্থা খুব কাহিল। চামড়া পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে, মুখে হাসির চিহ্নটুকুও নেই। চাউনি উদ্‌ভ্রান্ত, কথা বলার ভঙ্গিও খাপছাড়া। তাই নগেন যখন চমকপ্রদ অবিশ্বাস্য কাহিনি পরাশর ডাক্তারকে শোনায় তখন ডাক্তার চিন্তা করেন কিছু একটা অবশ্যই ঘটেছে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন নগেন মিথ্যে বানোয়াট গল্প শোনানোর ছেলে নয়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...